আন্তরাকিতা ও ভালোবাসায় টেকসই প্রযুক্তি কাঠামোর মাধ্যমে দেশে কন্যা শিশুর বৈষম্য নিতে সামতা আনয়ন সম্ভব। তবে এই কাঠামো তৈরি আছে জানিয়ে সকলের সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জানিয়েছেন, শিগগিরি বিয়ে ও বিচ্ছেদের কার্যক্রমের ডিজিটাল রূপান্তরের অনলাইন প্লাটফর্ম ‘বন্ধন’ উন্মুক্ত করে দেবে আইসিটি বিভাগ।
আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে শিশুশ্রম প্রতিরোধে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্রজন্ম, আমাদের প্রজন্ম’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রযুক্তি ব্যাবহারে নারীপুরুষের সাম্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সংলাপের সভাপতি ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রযুক্তি হবে সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হলে প্রথমেই নারী সমাজের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। চিন্তার মনস্তাত্বিক পরিবর্তন ছাড়া কোনো প্রযুক্তি বা প্রকল্প পরিকল্পনা কাজে লাগবে না।
সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস শাখার এডিশনাল ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মোঃ তবারক উল্লাহ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ নোভা আহমেদ, আইএলও বাংলাদেশের ন্যাশনাল স্পেশালিস্ট অ্যান্ড প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মনিরা সুলতানা ও ম্যারেজ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক জেন্ডার জাস্টিসের ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের পরিচালক নবনিতা চৌধুরির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চিন্তার মনস্তাত্বিক পরিবর্তন ছাড়া আমরা যতই প্রযুক্তি বা পরিকল্পনা নেই না কেন তা কাজে লাগবে না। তাই নারীদের সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করতে হবে।
নারীর সামতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা উল্লেখ করে পলক বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার করার শুরুতেই তিনি একজন ছেলের সঙ্গে একজন মেয়েকে ফ্রন্ট ডেস্কে নিয়োগ নিশ্চিত করেছিলেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা কেবল ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকারই নন; তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি তিনি। একজন রাষ্ট্রনায়কের কাজ হচ্ছে তাঁর একটি সিদ্ধান্তে কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেরকমই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে ৬০% কোটা হবে নারীদের জন্য। যার ফলে, বর্তমানে প্রাইমারী স্কুলে ৬০% এর উপরে শিক্ষিকারা মায়ের মমতা নিয়ে শিশুদের পড়াশোনা করাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের মাস্টার প্লানের কারণেই আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে মহামারিতেও ৭০ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সংযুক্ত থেকে শিক্ষাকার্যক্রম চলেছে।
বক্তব্যে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি নম্বর প্রচলনের পেছনের গল্প তুলে ধরেন পলক। তিনি বলেন, বিগত চার বছরের ৩৩৩ নম্বরে আমরা শিশু বিয়ের বিষয়ে ১৮ হাজার কল পেয়েছি।
আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল ভেরিফাইয়েবল আইডি, ডিজিটার পেমেন্ট সিস্টেম, ইন্টার ডিজিটাল ভেরিফিকেশন সবই প্রস্তুত করা আছে। পরিচয় ডট গভের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের ইন্টারঅপারেবল সিস্টেমও রেডি। এখন শুধু জোড়া লাগাতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা ‘বন্ধন.গভ.বিডি’ নামে অনলাইনে ম্যারেজ ও ডিভোর্স সিস্টেমও তৈরি করেছি। শিগগিরি এটা উন্মুক্ত করা হবে। এরপর অনেক সমস্যাই আপনাতেই সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের সব সমাধানই তৈরি করা আছে।
শিশু শ্রম রোধে ব্লকচেইন ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে পলক আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভীষণভাবে টেকস্যাভি।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই একজন কন্যা শিশু তার পিতা-মাতার কাছে বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে। সেজন্য কন্যা শিশুকে শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। এই ২টি সম্ভাবনার দ্বার যদি আমরা উন্মোচন করে দিতে পারি তাহলেই নারীদের সম্মান-মর্যাদা সমাজে নিশ্চিত হবে এবং কন্যা শিশুকে সমাজ ও পরিবার বোঝা মনে না করে তাদেরকে সম্পদ মনে করবে।